এক রাজা গল্প
এক দেশে ছিল এক প্রতাপশালী রাজা।
রাজা যেমন ছিল প্রতাপশালী তেমনি
ছিল নৈতিক চরিত্রবান। একদিন রাজা
তার সভাসদদের ডেকে বললেন,
"আমি তা বৃদ্ধ হয়ে গেছি এখন আমার
করা দরকার।
এই কথা শুনে সভাসদ সবাই হতবাক।
সভাসদ সবাই বলে উঠলাো,
"রাজা মহাশয় আপনি তার নাম বলুন।
আমরা তার আজ্ঞাবহ হয়ে যাব।
রাজা বললেন,
"সেটাই তাে সমস্যা। কার নাম বলবো,
কাউকে তো আমার মত দেখছি না।"
এই কথা শুনে সভাসদ সবাই আবারও
অবাক। তারা ভাবছে রাজার এতগুলো।কাউকে দেখছে না কেন? হঠাৎ রাজা
সভাসদকে হুকুম দিলন যে রাজে্যের
যত কিশাের বালক আছে তাদেরকে
একদিন রাজ্যের সকল কিশোরদের
হাজির করানো হলা। রাজা সকল
কিশােরদের উদ্দেশ্য ঘোষনা করলেন,
"শােন বাছা আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি।
আমি চাই তােমাদের মধ্য থেকে কেউ
একজন রাজ্যের রাজা হিসেবে দায়িত্ব
গ্রহন করো। কিন্তু তোামাদের মধ্যে কে
কিভাবে জানবো। সেটা বের করার
জন্য তােমাদের এখানে ডেকেছি।
এই ঘােষনা শুনে সব কিশোররা তাে
মহা খুশি সাথে তাদের বাবা/মারাও।
সবাই স্বপ্ন দেখতে শুরু করে দিল যে
এবার রাজা গন্ভীর কণ্ঠে আবার ঘোষনা"আমি তামাদের একটা পরীক্ষা করবো
যাতে আমি বুঝতে পারি তােমাদের
মধ্যে কে রাজা হবার যোগ্যতা রাখ।"
শিশুরা সবাই আনন্দিত হলো। এটা
কোন সমস্যা না। এবার রাজা প্রত্যেক
কিশাের বালকদের হাতে একটা করে।
গাছের বীজ দিলেন, আর ঘোষনা
"তােমরা এই বীজ নিয়ে বাড়ীতে টবে
লাগাবে। সেটার যত্ন নেবে, তারপর
এক বছর পর তােমরা এই বীজ থেকে
যা পেলে তাসাথে করে এই দরবারে
আবার আাসবে। তখন আমি তামাদের
বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।"
বীজ হাতে নিয়ে কিশোর বালক
আর তাদের বাবা/মা বেজায় খুমি
মনে বাউডীতে ফির গেল। সভাসদের
সকলেই বিষয়টা অনুধাবন করতে না
পেরে হতাশায় পড়ে গেল। বিষয়েটা কি?এই কিশোর বালকদের মধ্যে একজন
বালকের নাম "লি্ক"। সবার মত লিঙ্কও
বীজটা বপন করে দিল। লিস্কের মাও
লিস্ককে গাছ জন্মানোর সবরকম
সহযােগিতা করতে লাগলো। লিঙ্ক
প্রতিদিন পানি দেয়। পরদিন স্কুলে
গিয়ে অন্যান্য বন্ধুদের কাছে তাদের
বীজের বিষয় নিয়ে আলাপ করে। ৪
সপ্তাহ, ৬ সপ্তাহ এভাবে ২ মাস ৬ মাস
কেটে যায় লিস্কের টবের বীজ অস্কৃরিত
হচ্ছে না অথচ অন্যান্য বন্ধুদের টবের
বীজ অঙ্কুরিত হয়ে বেশ বড় সড় গাছ
হয়ে গেছে। লিস্ক বেশ চিন্তায় পড়ে
গেল। লিস্কের মা লিঙ্ককে সান্তনা দিতে
সময় নেবে। লিস্কও তাই মনে করে
ধের্য সহকারে বীজের পরিচর্চা করতে
লাগলা। প্রতিদিন স্কুলে বন্ধুদের
কাছে তাদের গাছের বিষয় গল্প শুনে
লিস্ক প্রায় হতাশায় পড়লো। লিঙ্ক তার
বীজের বিষয় বন্ধদের বলে না। এভাবেবছর কেটে গেল কিন্তু লিঙ্কের বীজ
থেকে আর গাছ জন্মায়নি। তারপর
আবার এক বছর পর রাজা তাদের
ডাকলেন। সবাই তাদের নিজ নিজ
শােভিত গাছ নিয়ে রাজ দরবারে
হাজির হলো। লিঙ্ক তার শুন্য টব নিয়ে
যেতে রাজী নয়। তারপরও স মায়ের
অনুরােধে তাই নিয়ে গেল। সকল বন্ধুরা
লিস্কের শুন্য টব দেখে হাসা
করলাে। কিন্তু লিস্ক ভয়ে ভয়ে তার শুন্য
টবটি নিয়ে সবার পিছনে দরবারের
এক পিলার পাশে কোন মতে লুকিয়ে
থাকলাে যাতে রাজা তাকে দেখতে না
পারে।
রাজা দরবারে এসে সকলের ফুলে
ফলে শােভিত গাছ দেখে বেশ মোহিত
হয়ে গেলেন। রাজা সব কিশোর
বালকদের বেশ উৎসাহ দিলেন। রাজাবলে উঠলেন,
"তােমরা বেশ যত্ন্ নিয়েছ তোমাদের
গাছগুলাের। কি সুন্দর ফুল আর ফল
তাতে। আমি মুন্ধ।"
এই কথা বলে রাজা আশপাশ
তাকাতেই নজর পড়লো পিলারে পাশে
দাড়িয়ে থাকা লিঙ্কের প্রতি। রাজা
"তুমি কেন ওখানে ওভাবে লুকিয়ে
আছ? বের হয়ে আস। কি সমস্যা
লিস্ক দেখলো সে রাজার দূষ্টি এড়াতে
পারেনি। তাই সে তার শূন্য টবটি
নিয়ে ধীর ধীরে রাজার সামনে এসে
দাঁড়ালাে। শুকনো মুখ নিয়ে লিঙ্ক যথেষ্ট
রাজা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন
"কি নাম তােমার?" উত্তরে স বললো,"আজ্ঞে আমার নাম লিঙ্ক।"
রাজা খুব নিখুত ভাবে লিস্কের টব
পরীক্ষা নীরিক্ষা করলেন এবং সেই
বীজটি টবের মাটির তলা থেকে বের
করে আনলেন। এটা দেখে দরবারের
সবাই বেশ হাসিতে ফেটে পড়লো।
রাজা নিজেও অট্রহাসিতে ফেটে
পড়লেন। সবার হাসি দেখে লিঙ্ক ও
তার মা আপমানিত বোধ করে আরো
জড়ােসড়া হয়ে পড়লো।
এবার রাজা বেশ গুরুগন্ভীর গলায় কথা
বলে উঠলন,
"তােমাদের গাছ পরিচর্চায় আমি
মুন্ধ ও অভিভুত হয়েছি। কিন্তু আমি
তােমাদের সবাইকে সিদ্ধ করা বীজ
দিয়েছিলাম যা থেকে কোন ধরনের
গাছ জন্মানোর কথা নয়। কিন্তু তােমরা
সেবীজ পরিবর্তন করে ভাল বীজ বপন
করে গাছ জন্মিয়েছ। অথচ এই লিঙ্কসে সত্য জিনিষ নিয়ে এসেছে। কাজেই
আমি দেখছি লিস্ক হচ্ছে সত্যবাদী
ও নৈতিক চরিত্রের অধিকারী। আর
রাজা হবার জন্য দরকার একজন
নৈতিক চরিত্রবান ও সত্যবাদী মানুষ।
সে বিবেচনায় আমি লিস্ককেই আমার
পরবর্তি রাজা হিসেবে নির্বাচন।
করলাম।"

Comments
Post a Comment