Skip to main content

পাখি আার শিকারির গল্প

               এক শিকারির আর পাখির গল্প 


একবার এক শিকারি ছোট্ট একটি

পাখি ধরে ফেললো। পাখিটি খুব

বুদ্ধিমান ছিলো।

পাখিটি শিকারির খুব প্রশংসা করতে

লাগলাে যে, তুমি এতবড় শিকারি!

জীবনে অনেক বাঘ মেরেছো, অনেক

ভাল্লুক মেরেছা, এই করেছো, সেই


আমি একটা ছোট্ট পাখি, আমার

ওজন ১০০ গ্রামও না, আমাকে খেয়ে

তুমি কী করবে? আমাকে খেলে তাে

তােমার পেটের একটা কোনাও ভরবে

না। তার চেয়ে বরং আমাকে ছেড়ে দাও

তােমাকে এমন তিনটি মূল্যবান বাণী

শােনাবাে, যা তোমার সারাজীবন কাজে দিবে এমনভাবে সে কথাবার্তা বলছিলো।

সে শিকারির মন গলে গেল। কারণ

তেল পেতে সবাই পছন্দ করে।

আরেকজনকে গলানোর সবচেয়ে

সহজ উপায় হচ্ছে তেল।

ছােট পাখি খেয়ে কোনো লাভ নেই।

তার চেয়ে শুনি, পাখিটা কী বলতে

চায়। হয়তো এতে আমার লাভ বেশি

হবে।

শিকারি রাজি হওয়ায় পাথিটি বললো,

আমি প্রথম বাক্যটি বলবো তোমার

হাতের ওপর বসে, দ্বরিতীয় বাক্যটি

বলবাে এই গাছের ডালে বসে, তৃতীয়

বাক্যটি বলবো গাছের মগডালে বসে।

শিকারি বললাো, ঠিক আছে। পাথি

বললাে, 'কখনো অলীক কল্পনা করোে

না, যা অবাস্তব সেটা কখনো বিশ্বাস

করাে না।শিকারি বললো, খুব ঠিক কথা। সত্যিই

তাই। কখনো অবাস্তব কথায় বিশ্বাস

করতে নেই। পাখি বললো, এবার

আমাকে গাছের ডালে যেতে দাও।

আমি দ্বিতীয় বাক্যটি বলবো। শিকারি

ছেড়ে দিলাে। গাছের ডালে উঠে পাখি

বললাে, 'যা হাতছাড়া হয়ে গেল তা

নিয়ে কখনো আফসােস করোে না।

শিকারি বললা, এটাও ঠিক। যা আর

আমার নেই, তা নিয়ে আফসোস করা

তাে বোকামি। পাখি এবার মগডালে

উঠলাে।

শিকারি বললাে, এবার তৃতীয় 

উপদেশটি বল। পাখি বললাে, তৃতীয়টি

বলার আগে দেখে নিই, আগের দুটি

উপদেশের শিক্ষা তোমার জীবনে।

কাজে লাগিয়েছাে কি না।

পাখিটি বললো, আমার পেটে আছে২০০ গ্রাম ওজনের একটি মুক্তো।

শুনে শিকারি খুব আফসােস শুরু

করলাে। হায় হায়! এ কী করলাম

আমি! এভাবে হাতছাড়া করলাম ধনী

হওয়ার এত সহজ সুযোগ! বলেই

পাখিকে ধরার ব্যর্থ চেষ্টায় ওপরের

দিকে লাফাতে লাগলো।

কিন্তু পাখি তো তখন মগডালে। সে

হাসলাে। বললো, দেখ, আমি আগেই

বলেছিলাম, অবাস্তব কথা কখনো

বিশ্বাস করো না। আমার ওজনই ১০০

গ্রাম।

আমার ভেতরে ২০০ গ্রামের মুক্তো

থাকবে কীভাবে? বলেছিলাম, যা

হাতছাড়া হয়ে গেল তা নিয়ে কখনো

আফসােস করো না।

কিন্তু তুমি তা-ই করছো। তােমাকে আর

কোনাে উপদেশ দেয়া অর্থহীন।কারণ অধিকাংশ মানুষের মতো

তুমিও উপদেশ কান দিয়ে শুনেছো।

কিন্তু তা থেকে শিক্ষা নাওনি। তোেমার

মতাে বােকা ও লোউীদের কারণেই।

প্রতারকরা প্রতারণা করার সুযোগ

পায়।

Comments

Popular posts from this blog

কুকর, কাকঁড়া ও শিয়ালের গল্প

              কুকর, কাকঁড়া ও শিয়ালের গল্প শিয়াল ও কুকুরের গল্প এক জনঙ্গল একটি শিয়াল ছিল। সে প্রতিদিন মানুষের বাড়ী থেকেও হাঁস-মুরগী চুরি করতো। কিন্তু সে যখন বৃদ্ধ হলাে, তখন শিকার করতে অক্ষম হয়ে পড়লো। তাই প্রায়ই সে চুরি করতে গিয়ে কুকুরের কাছে ধরা পরতো। ধরা পরার ভয়ে সে শিকার থেকে বিরত থাকতে চাইলাে। কিন্তু আহার না পেলে মৃত্যুর প্রহর গুনতে হবে। এনিয়ে সে বেশ চিন্তায় পড়ে গেল। হঠাৎ তার মাথায় একটি চমৎকার বুদ্ধি এলো। সে ভাবলো এবার আর অনাহারে কষ্ট করত হবে। অনায়াসেই পাওয়া যাবে অত্যন্ত সুস্বাদু খাবার! শয়ালের অন্যতম প্রধান  খাদ্য হচ্ছে কাঁকড়া। শিয়াল চিন্তা করলাে কাকড়া শিকার করেই সে বাকি দিনগুলি কাটাবে। ওখানে কুকুরেরও তাড়া খেতে হবেনা, আর বেশী শক্তিরও প্রয়োেজন হবেনা। কাকড়া শিকার করতে। কিন্তু যাবার সাথেই সাথেই কাকড়া তার গর্তে ঢুকলা। নিরূপায় হয়ে শিয়াল মশাই তার পান্ডিত্য প্রকাশের চিন্তা করতে লাগলো। হঠাৎ সে একটি মন ভুলানো গান রাচনা করলােঃ কাকুড়ি মাকুড়ি পরমা সুন্দরী, একটু বাহিরে এসো মোলাকাত করি। ভিতর থেকেই কাঁকড়া জবাব দিলঃ বাহিরে হেঁট...

দুর্বলকে কখনো অবহেলা করো না

  দূর্বলকে কখনো অবহেলা করা ঠিক না। এক গ্রামে অনেক গুলো সবল ছেল পেলেদের মধ্যে একটি মাত্র দূর্বল ছেলে। তাই সবাই তাকে কিছুটা অবজ্ঞা করেই চলত। দূর্বল ছেলেটির খেলাধুলা কিংবা অন্য কোন কিছুতে অংশগ্রহন ছিল না বললেই চলে। গ্রামের ছেলে পেলেরা ছোট একটা নদী অপর পারে পাহাড়ের কোল মাঠের মত একটা জায়গায় খেলতে যেত। দূর্বল ছেলেটিও সংগে যেত, যদিও মাঠের একপাশে বসিয়ে রাখা হত তাকে। গাজ পালায় ঢেকে থাকা বনটতে ভয়ংকর সব পশুর আনাগোনাও ছিল, যদিও দিনের বেলায় মাঠের দিকটা ছিল নিরাপদ। ঝড়াে আবহাওয়ার এক বিকেলে, সব ভয়কে উপেক্ষা করেই গ্রামের ছেলে পেলেরা রওয়ানা দিল খেলার মাঠের দিকে। বিকেল যতই গড়াতে লাগল ঝড়ের বেগও বাড়তে লাগল পাল্লা দিয়ে। ঝড় একসময় তীব্র রূপ ধারন করল। টনক নড়ল ছেলেগুলোর, দৌড়ে আশ্রয় নিল গূহার মত একটি জায়গায়। দূর্বল ছেলেটি আগে থেকেই ওখানে আশ্রয় নিয়েছিল। ঝড় তখন দানবীয় রূপে গাছপালা সব তছনছ করে ফেলছে। একটি গাছ শেকড়শহ উপড়ে এসে পড়ল গূহার মুখে। ঝড় কিছুটা কমে আসতেই ছেলেগুলা হাতলাগালাে গাছটাকে সরানোর। কাজটি তাড়াতারি সাড়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠল তারা। সন্ধ্যার ঘনিয়ে আসা অন্ধকার ভয়ের মাত্...