দূর্বলকে কখনো অবহেলা করা ঠিক না।
এক গ্রামে অনেক গুলো সবল ছেল পেলেদের
মধ্যে একটি মাত্র দূর্বল ছেলে। তাই সবাই তাকে
কিছুটা অবজ্ঞা করেই চলত। দূর্বল ছেলেটির
খেলাধুলা কিংবা অন্য কোন কিছুতে অংশগ্রহন
ছিল না বললেই চলে।
গ্রামের ছেলে পেলেরা ছোট একটা নদী অপর
পারে পাহাড়ের কোল মাঠের মত একটা জায়গায়
খেলতে যেত। দূর্বল ছেলেটিও সংগে যেত, যদিও
মাঠের একপাশে বসিয়ে রাখা হত তাকে।
গাজ পালায় ঢেকে থাকা বনটতে ভয়ংকর সব
পশুর আনাগোনাও ছিল, যদিও দিনের বেলায়
মাঠের দিকটা ছিল নিরাপদ। ঝড়াে আবহাওয়ার
এক বিকেলে, সব ভয়কে উপেক্ষা করেই গ্রামের
ছেলে পেলেরা রওয়ানা দিল খেলার মাঠের দিকে।
বিকেল যতই গড়াতে লাগল ঝড়ের বেগও বাড়তে
লাগল পাল্লা দিয়ে। ঝড় একসময় তীব্র রূপ ধারন
করল। টনক নড়ল ছেলেগুলোর, দৌড়ে আশ্রয়
নিল গূহার মত একটি জায়গায়। দূর্বল ছেলেটি
আগে থেকেই ওখানে আশ্রয় নিয়েছিল। ঝড় তখন
দানবীয় রূপে গাছপালা সব তছনছ করে ফেলছে।
একটি গাছ শেকড়শহ উপড়ে এসে পড়ল গূহার
মুখে। ঝড় কিছুটা কমে আসতেই ছেলেগুলা হাতলাগালাে গাছটাকে সরানোর। কাজটি তাড়াতারি
সাড়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠল তারা। সন্ধ্যার
ঘনিয়ে আসা অন্ধকার ভয়ের মাত্রাটা বাড়তে
লাগল তাদের, ভয়ংকর সব জানোয়ারের। গাছ
ঠেলতে লাগল তারা সবাই মিলে, গাছ একটু নড়ে
তা আবার নড়ে না। বার বার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ
হল তারা, শেষ পর্যন্ত মাটিতে হাতপা ছড়িয়ে বসে
পড়ল সব হতাশ হয়ে পড়া ছেলেগুলা। বিশ্রাম
নেয়ার পর, শেষ চেষ্টায় সব শক্তি লাগিয়ে আবার
গাছিটিতে ঠেলা লাগাল তারা, একটু নড়ে থেমে
আমাকে তােমাদের সাথে চেষ্টা করতে দাও, দূর্বল
ছেলেটি মূৃদু শুরে বলল। সবাই তখন মরিয়া হয়ে
উঠেছে। রাজি হয়ে আবার গাছিটিকে ঠেলতে শুরু
করল সবাই, এবার দূর্বল ছেলেটিসহ।
একটু একটু নড়তে শুর করল গাছটা, তারপর
সবাইকে আবাক করে দিয়ে গাছটি গড়িয়ে পড়ল
একপাশে একটুখানি, আর তাতে করেই গুহা
থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পেল ছেলেগুলা
একজন একজন করে। এরপর থেকে দূর্বল
ছেলেটিকে কেউ কখনো আর অবহেলা করেনি।
➤উপদেশ
কাউকে দুর্বল ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়

Comments
Post a Comment