Skip to main content

গল্প নয় বাস্তব ঘটনা

                     একটি শিক্ষা মূলক গল্প 


গল্প নয় সত্যি ঘটনা!

এক লােকের একটা প্রভু ভক্ত কুকুর

ছিল। লােকটা যখন বাইরে থেকে

বাড়িতে আসতাে কুকুরটি তখন।

লােকটার পায়ের কাছে এসে লেজ

নাড়াতে নাড়াতে মালিকের কাপড়

লােকটি যখন খেতে বসতো কুকুরটি

তখন সামনে এসে বসে থাকতো।

মালিক কিছু দিলে তাই খেতো।

একদিন দুপুর বেলা লোকটি যখন

খেতে বসলাে, কুকুরট তখন বরাবরের

মত লােকটির সামনে এসে বস ছিল

আর লেজ নাড়িয়ে, নাড়িয়ে মালিকের

খাবার খাওয়া দেখছিল।

লােকটি অনেক্ষন যাবত কুকুরতিকে

কুকুরটি তার অবস্থান ছেড়ে মালিকের

কাছাকাছি চলে গেলো, মালিক যদিতখন লােকটির মাথায় বিভিন্ন টেনশন

কাজ করতেছিল।

কুকুরটি যখন খাওয়ার জন্য লোকটির

কাছে যেয়ে মুখ বাড়িয়ে দিল, তখন

সব রাগ সেই কুকুরটির উপরে

ঝাড়লাে। কুকুরটাকে লোকটি ইচ্ছেমত

মারলাে।

অবলা কুকুর আর কি বলবে? মাথা

নিচু করে মালিকের মার খেলো এবং

ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে উঠানের এক

কোনে মাথা নিচু করে বসে রইলো।

এরপর লোকটি বাইরে থেকে রাত্রে

যখন বাড়িতে এলাে, তখন লোকটি

তার সেই প্রভু ভক্ত কুকুরটিকে আর

দেখতে পেলোনা।

লােকটি সারা বাড়ি তন্ন তন্ন করেখুঁজলাে কিন্ত কুকুটিকে আর পেলোনা।

তখন লোকটি আফসােস করতে

লাগলো হায়, কুকুরটিকে এভাবে বােধ

হয় আমার মারা ঠিক হয়নি।

লােকটি পরের কিছুদিন সারা এলাকা

ঘুরে ঘুরে অনেক খুজলো তবুও

কুকুরটিকে আর পাওয়া গেলো না।

এরপর, মাস তিনেক বাদে লােকটি

দুই এক গ্রাম পরে একটা রাস্তা দিয়ে

হেঁটে যাচ্ছিলোে, তখন লোকটি দেখতে

পেলো একটা দোকানের পাশে তার

সেই কুকুরটি মাথা মাটির সাথে মিশিয়ে

দিয়ে কেমন মন মরা হয়ে শুয়ে আছে।

তখন লােকটি দৌড়িয়ে গেলো সেই

কুকুরটার কাছে। লোকটিকে দেখে

কুকুরটা লজ নাড়াত নাড়াতে তার

পায়ের কাছে এসে সাম্নের দু পা ভাছ

করে মাথা নিচু করে ক্ষমা চাওয়ারপাশের দোকানদার লাকটিকে

বলতে লাগলো, ভাই কুকুরটা কি

আপনার? লোকটি বলেল, ই্যা আমার...

দোকানদার লোকটিকে বলল, ভাই

অনেক কুকুর দেখেছি যারা খেতে না

দিলেও চুরি করে খায়।

আর এই কুকুরটা গত তিন মাস যাবত

আমার দোকানের সামনে পড়ে আছে,

কুকুরটির সামনে রুটি ,বিস্কুট আরও

অনেক কিছু এমনকি গাশত দিয়েও

চেষ্টা করেছি, কিছুতেই খায় না..কোন

কিছুই খাওয়াইতে পারলাম না। ভাই

কুকুরটা কি কিছুই খায় না? লোকটির

আর বুঝতে বাকি রইলো না।

লােকটির দুই চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে

পড়তে থাকলাে, লােকটি কুকুরটাকে

দুই হাতে কোলে তুলে নিয়ে চিৎকার

দিয়ে কানতে লাগলো আর বলতে

লাগলাে হায়রে...তুই সামান্য কুকুর হয়ে

তাের মালিকের কথার অবাধ্য হলিনা।আমি খাইতে দেইনি বলে গত তিন মাস

তুই না খেয়ে রইলি! আর আমি মানুষ

হয়ে আমি আমার মালিকরে চিনতে

পারলাম না...যে মালিক আমারে

খাওয়াইলা আমারে সৃষ্টি করলো তারে

কখনাে ডাকলাম না।

কতটা কপাল পোড়া আমি। তুই কুকুর

হয়েও তাের প্রভুরে চিনলি আর আমি

মানুষ হয়ে আমার প্রভুরে চিনলাম না...

এরপর থেকে লোকটি এমন ভাল হয়ে

গেলাে যে লোকটি আর কখনো বোধ

হয় বেঁচে থাকা অবস্থায সৃষ্টিকর্তার রাস্তা

থেকে সরে নি।

Comments

Popular posts from this blog

কুকর, কাকঁড়া ও শিয়ালের গল্প

              কুকর, কাকঁড়া ও শিয়ালের গল্প শিয়াল ও কুকুরের গল্প এক জনঙ্গল একটি শিয়াল ছিল। সে প্রতিদিন মানুষের বাড়ী থেকেও হাঁস-মুরগী চুরি করতো। কিন্তু সে যখন বৃদ্ধ হলাে, তখন শিকার করতে অক্ষম হয়ে পড়লো। তাই প্রায়ই সে চুরি করতে গিয়ে কুকুরের কাছে ধরা পরতো। ধরা পরার ভয়ে সে শিকার থেকে বিরত থাকতে চাইলাে। কিন্তু আহার না পেলে মৃত্যুর প্রহর গুনতে হবে। এনিয়ে সে বেশ চিন্তায় পড়ে গেল। হঠাৎ তার মাথায় একটি চমৎকার বুদ্ধি এলো। সে ভাবলো এবার আর অনাহারে কষ্ট করত হবে। অনায়াসেই পাওয়া যাবে অত্যন্ত সুস্বাদু খাবার! শয়ালের অন্যতম প্রধান  খাদ্য হচ্ছে কাঁকড়া। শিয়াল চিন্তা করলাে কাকড়া শিকার করেই সে বাকি দিনগুলি কাটাবে। ওখানে কুকুরেরও তাড়া খেতে হবেনা, আর বেশী শক্তিরও প্রয়োেজন হবেনা। কাকড়া শিকার করতে। কিন্তু যাবার সাথেই সাথেই কাকড়া তার গর্তে ঢুকলা। নিরূপায় হয়ে শিয়াল মশাই তার পান্ডিত্য প্রকাশের চিন্তা করতে লাগলো। হঠাৎ সে একটি মন ভুলানো গান রাচনা করলােঃ কাকুড়ি মাকুড়ি পরমা সুন্দরী, একটু বাহিরে এসো মোলাকাত করি। ভিতর থেকেই কাঁকড়া জবাব দিলঃ বাহিরে হেঁট...

পাখি আার শিকারির গল্প

                এক শিকারির আর পাখির গল্প  একবার এক শিকারি ছোট্ট একটি পাখি ধরে ফেললো। পাখিটি খুব বুদ্ধিমান ছিলো। পাখিটি শিকারির খুব প্রশংসা করতে লাগলাে যে, তুমি এতবড় শিকারি! জীবনে অনেক বাঘ মেরেছো, অনেক ভাল্লুক মেরেছা, এই করেছো, সেই আমি একটা ছোট্ট পাখি, আমার ওজন ১০০ গ্রামও না, আমাকে খেয়ে তুমি কী করবে? আমাকে খেলে তাে তােমার পেটের একটা কোনাও ভরবে না। তার চেয়ে বরং আমাকে ছেড়ে দাও তােমাকে এমন তিনটি মূল্যবান বাণী শােনাবাে, যা তোমার সারাজীবন কাজে দিবে এমনভাবে সে কথাবার্তা বলছিলো। সে শিকারির মন গলে গেল। কারণ তেল পেতে সবাই পছন্দ করে। আরেকজনকে গলানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে তেল। ছােট পাখি খেয়ে কোনো লাভ নেই। তার চেয়ে শুনি, পাখিটা কী বলতে চায়। হয়তো এতে আমার লাভ বেশি হবে। শিকারি রাজি হওয়ায় পাথিটি বললো, আমি প্রথম বাক্যটি বলবো তোমার হাতের ওপর বসে, দ্বরিতীয় বাক্যটি বলবাে এই গাছের ডালে বসে, তৃতীয় বাক্যটি বলবো গাছের মগডালে বসে। শিকারি বললাো, ঠিক আছে। পাথি বললাে, 'কখনো অলীক কল্পনা করোে না, যা অবাস্তব সেটা কখনো বিশ্বাস করাে না।শিকারি বললো, খুব ঠিক কথা...

দুর্বলকে কখনো অবহেলা করো না

  দূর্বলকে কখনো অবহেলা করা ঠিক না। এক গ্রামে অনেক গুলো সবল ছেল পেলেদের মধ্যে একটি মাত্র দূর্বল ছেলে। তাই সবাই তাকে কিছুটা অবজ্ঞা করেই চলত। দূর্বল ছেলেটির খেলাধুলা কিংবা অন্য কোন কিছুতে অংশগ্রহন ছিল না বললেই চলে। গ্রামের ছেলে পেলেরা ছোট একটা নদী অপর পারে পাহাড়ের কোল মাঠের মত একটা জায়গায় খেলতে যেত। দূর্বল ছেলেটিও সংগে যেত, যদিও মাঠের একপাশে বসিয়ে রাখা হত তাকে। গাজ পালায় ঢেকে থাকা বনটতে ভয়ংকর সব পশুর আনাগোনাও ছিল, যদিও দিনের বেলায় মাঠের দিকটা ছিল নিরাপদ। ঝড়াে আবহাওয়ার এক বিকেলে, সব ভয়কে উপেক্ষা করেই গ্রামের ছেলে পেলেরা রওয়ানা দিল খেলার মাঠের দিকে। বিকেল যতই গড়াতে লাগল ঝড়ের বেগও বাড়তে লাগল পাল্লা দিয়ে। ঝড় একসময় তীব্র রূপ ধারন করল। টনক নড়ল ছেলেগুলোর, দৌড়ে আশ্রয় নিল গূহার মত একটি জায়গায়। দূর্বল ছেলেটি আগে থেকেই ওখানে আশ্রয় নিয়েছিল। ঝড় তখন দানবীয় রূপে গাছপালা সব তছনছ করে ফেলছে। একটি গাছ শেকড়শহ উপড়ে এসে পড়ল গূহার মুখে। ঝড় কিছুটা কমে আসতেই ছেলেগুলা হাতলাগালাে গাছটাকে সরানোর। কাজটি তাড়াতারি সাড়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠল তারা। সন্ধ্যার ঘনিয়ে আসা অন্ধকার ভয়ের মাত্...